দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের অর্থনীতিকে একটি অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামোয় রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থার প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশকে একটি অগ্রসর ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করা আমাদের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রায় বিএনপির অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে পোশাকশিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালীকরণ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছিল।
অর্থমন্ত্রী জানান, ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন, শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাসহ একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও নিয়ন্ত্রণমুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে সব পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষক, জেলে ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান বাড়াতে আইসিটি খাত সম্প্রসারণ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজম খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড চালুর মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থায় অটোমেশন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কর-জিডিপি অনুপাত ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংস্কার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিতকরণ এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও বিচক্ষণ নীতি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এমএস/